সেনাবাহিনী প্রধান জেনারেল ওয়াকার-উজ-জামান বলেছেন, সংখ্যালঘু ইস্যুতে বহির্বিশ্বের কোনো চাপ নেই। রাষ্ট্রের সংস্কার শেষে একটি গ্রহণযোগ্য নির্বাচন করতে বর্তমান সরকারকে সর্বাত্মক সহযোগিতা করবে সেনাবাহিনী। গতকাল মঙ্গলবার বিকেলে রাজশাহী সেনানিবাসে আইনশৃঙ্খলা পরিস্থিতিসহ দেশের সার্বিক বিষয় নিয়ে গণমাধ্যম কর্মীদের ব্রিফ করেন সেনাপ্রধান। এ সময় তিনি বলেন, দেশের বর্তমান পরিস্থিতি ক্রমেই স্বাভাবিক হয়ে আসছে। আইনশৃঙ্খলা পরিস্থিতি পুরোটাই নিয়ন্ত্রণে রয়েছে।
সেনাপ্রধান বলেন, দেশের ২০ জেলায় ৩০টি বিচ্ছিন্ন ঘটনা ঘটেছে। এগুলোর একটিও কাম্য নয়। অপরাধী যেই হোক না কেন তাকে আইনের আওতায় নিয়ে আসা হবে।
গণমাধ্যম কর্মীদের এক প্রশ্নের জবাবে সেনাপ্রধান বলেন, পুলিশ ট্রমার মধ্যে রয়েছে। ট্রমা কাটিয়ে স্বাভাবিক অবস্থায় ফিরে আসলে সেনাবাহিনী ব্যারাকে ফিরে যাবে। আওয়ামী লীগসহ ক্ষমতায় থাকা প্রভাবশালী রাজনৈতিক নেতাদের সেনাবাহিনী আশ্রয় দিয়েছে কি না এমন প্রশ্নের জবাবে সেনাপ্রধান বলেন, জীবন বিপন্ন হতে পারে, ধর্ম-বর্ণ নির্বিশেষে, এমন অনেককেই সেনাবাহিনী আশ্রয় দিয়েছে। তাদের বিরুদ্ধে যদি কোনো অভিযোগ থাকে, মামলা হয়, সেক্ষেত্রে বিচারের আওতায় যাবে, শাস্তি হবে। অবশ্যই আমরা চাইব না তাদের সাথে বিচারবহির্ভূত হামলা বা কোনো কিছু ঘটুক। যে মতেরই হোক, যে দলেরই হোক-জীবনের ওপর হুমকি থাকায় আমরা আশ্রয় দিয়েছি। গতকাল মঙ্গলবার বিকেলে রাজশাহী সেনানিবাসে সংবাদকর্মীদের কাছে এসব কথা বলেন তিনি।
সেনাবাহিনী প্রধান বলেন, বহির্বিশ্বের কোনো চাপ নেই, রাষ্ট্রের সংস্কার শেষে একটি গ্রহণযোগ্য নির্বাচন অনুষ্ঠান আয়োজনে সেনাবাহিনী বর্তমান সরকারকে সর্বাত্মক সহযোগিতা করবে। জেনারেল ওয়াকার-উজ-জামান বলেন, অনেকগুলো অস্ত্র উদ্ধার হয়েছে। অস্ত্র উদ্ধার চলমান। অস্ত্র উদ্ধার করা জরুরিও। তিনি আরও বলেন, পরিস্থিতি এখন শান্ত হয়ে এসেছে। পুলিশ কিছু ট্রমার মধ্যে আছে। ট্রমা কাটিয়ে উঠতে পারলে তারা সঠিকভাবে দায়িত্ব পালন করতে পারবে। পুলিশ অনেক থানায় কাজ শুরু করেছে। আমরা পুলিশকে সহায়তা করছি। পুলিশ সম্পূর্ণভাবে যখন কাজকর্ম শুরু করে দেবে, তখন পরিস্থিতি আরও স্বাভাবিক হয়ে আসবে। পরিস্থিতি স্বাভাবিক হলে আমরা সেনানিবাসে ফেরত যাব।
রাজশাহী বিভাগের পরিস্থিতি নিয়ে সেনাপ্রধান বলেন, ‘সংখ্যালঘু ইস্যুতে রাজশাহী বিভাগে সেরকম ঘটনা ঘটেনি। এটা অত্যন্ত ভালো দিক। সুন্দর পরিবেশ বজায় আছে। সবাই মিলে কাজ করলে ভালো পরিবেশ থাকবে।’ এর আগে তিনি রাজশাহী বিভাগের শীর্ষ সরকারি কর্মকর্তাদের সঙ্গে সার্বিক বিষয় নিয়ে মতবিনিময় করেন। সেখানে উপস্থিত ছিলেন বিভাগীয় কমিশনার (অতিরিক্ত সচিব) ড. দেওয়ান মুহাম্মদ হুমায়ূন কবীর।
গণভবন থেকে লুট হওয়া টাকা উদ্ধার করেছে সেনাবাহিনী : ছাত্র-জনতার আন্দোলনের মুখে গত ৫ আগস্ট (সোমবার) শেখ হাসিনা প্রধানমন্ত্রী পদ থেকে পদত্যাগের পর দেশত্যাগ করেন। এরপরই বিক্ষুব্ধ জনতা প্রধানমন্ত্রীর সরকারি বাসভবন গণভবনে হামলা ও লুটপাট চালায়। ওইদিন হাজার হাজার মানুষ গণভবন থেকে নগদ টাকা, আসবাবপত্র, শাড়ি-গয়না, এমনকি হাঁস-মুরগিও লুট করে নিয়ে যায়। গণভবন থেকে লুট হওয়া মালামালের মধ্যে একটি সিন্দুক নিয়ে যান মোহাম্মদপুরে রায়ের বাজার এলাকার কয়েকজন। সিন্দুকটিতে ১৬ লাখ টাকা ছিল। এই টাকার ভাগাভাগি নিয়ে দ্বন্দ্ব শুরু হলে খবর চলে যায় সেনাবাহিনীর কাছে। পরে সেনাবাহিনী ও র্যাবের একটি টিম গিয়ে ৮ লাখ টাকা উদ্ধার করে। গত সোমবার রাতে রাজধানীর মোহাম্মদপুর থানার রায়েরবাজার বটতলা এলাকা থেকে টাকাগুলো উদ্ধার করা হয়। পরে তাদের নিয়ে যাওয়া হয় বসিলার এসপিবিএনে সেনা ক্যাম্পে।
নাম প্রকাশ না করার শর্তে সেনাবাহিনীর এক কর্মকর্তা বলেন, গণভবন থেকে একটি সিন্দুক এনেছিলেন ৫ থেকে ৬ জন ব্যক্তি। এরপর তাদের মধ্যে একজন কিছু টাকা নিয়ে গ্রামের বাড়িতে চলে যান। বাকি টাকা একজনের কাছে থেকে যায়। এই টাকা ভাগাভাগি নিয়ে দ্বন্দ্ব শুরু হলে একজন ফোন করে সেনাবাহিনীকে টাকার তথ্য দেয়। পরবর্তী সময়ে গত সোমবার রায়েরবাজারের একটি বাড়ি থেকে টাকাগুলো উদ্ধার করা হয়। প্রত্যক্ষদর্শীরা জানান, এক ব্যক্তি সেনাবাহিনীকে জানায় তার বাসার পাশে একটি ব্যাগে টাকা পাওয়া গেছে। পরে সেনাবাহিনী গিয়ে টাকাগুলো উদ্ধার করে। স্থানীয় কয়েকজনের উপস্থিতিতে টাকাগুলো বুঝে নেয় সেনাবাহিনীর টহল টিম। মোহাম্মদপুর এলাকায় টহল টিমের দায়িত্বে থাকা সেনাবাহিনীর ক্যাপ্টেন সাদির বলেন, আমরা খবর পেয়ে ঘটনাস্থলে গিয়ে ৮ লাখ টাকা উদ্ধার করি। বাকি টাকা উদ্ধারে চেষ্টা চলছে, এই ঘটনায় কেউ আটক নেই।
নিউজটি আপডেট করেছেন : Dainik Janata

সংখ্যালঘু ইস্যুতে বহির্বিশ্বের কোনো চাপ নেই : সেনাপ্রধান
- আপলোড সময় : ১৪-০৮-২০২৪ ১২:৩৬:৫৩ পূর্বাহ্ন
- আপডেট সময় : ১৪-০৮-২০২৪ ১২:৩৬:৫৩ পূর্বাহ্ন


কমেন্ট বক্স
সর্বশেষ সংবাদ